দিনাজপুর বোর্ডে শীর্ষে গাইবান্ধা জেলা

0

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফলে ৮৩ দশমিক ৯২ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭৬৫ শিক্ষার্থী। শিক্ষাবোর্ড প্রদত্ত পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, এবারে এই বোর্ড থেকে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৭৩ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। যার মধ্যে পাস করেছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮১৫ জন। পাসের হার ও জিপিএ-৫ এ ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। ছাত্রীর পাসের হার ৮৫ দশমিক ০১ শতাংশ আর ছাত্রের পাসের হার ৮২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৩ হাজার ২৭৭ জন ও ছাত্রীর সংখ্যা ৩ হাজার ৪৮৮ জন।

এবারে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোই বেড়েছে। গত বছরে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ৬৩ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৩০৩ জন। এবারে এই বোর্ডের অধীনে ৩ হাজার ২৬৪টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২৮৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এই বোর্ডে গণিত ও ইংরেজীতে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান। তিনি জানান, মোট অকৃতকার্যের মধ্যে ২৩ হাজার ১৬০ জন ইংরেজীতে ও ১৯ হাজার ৬৬৬ জন গণিতে অকৃতকার্য হয়েছে। শতভাগ পাস করেছে ২৮৪টি প্রতিষ্ঠান আর একজনও পাস করতে পারেনি ৯ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

এবারে যে ৯ প্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করতে পারেনি সে সব প্রতিষ্ঠান হলোঃ নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার রামগঞ্জ জুনিয়র গার্লস স্কুল, কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার মেহেরুন্নেছা জুনিয়র গার্লস হাই স্কুল, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার গবধা জুনিয়র হাইস্কুল, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার আত্রাই জুনিয়র স্কুল, ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বেউরঝাড়ী জুনিয়র স্কুল, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপরীগঞ্জ জুনিয়র গার্লস স্কুল, একই জেলার বোদা উপজেলার বোদা পওরা আদর্শ জুনিয়র স্কুল, আটোয়ারী উপজেলার জসিমুন নেছা জুনিয়র গার্লস স্কুল এবং একই জেলা ও উপজেলার চাপড়াঝাড় আদর্শ জুনিয়র স্কুল। এসব প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ থেকে ১১ জনের মধ্যে। এসব প্রতিষ্ঠার থাকার কোন প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান।

এই বোর্ডের ৮ জেলার মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে গাইবান্ধা জেলা। এই জেলায় পাসের হার ৮৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১২ জন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রংপুর জেলা, এই জেলার পাসের হার ৮৭ দশমিক ৫০ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৬৯৭ শিক্ষার্থী। ৮৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা। এই জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬২৬ জন। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে নীলফামারী জেলা। এই জেলার পাসের হার ৮৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৭১ জন। ৮৩ দশমিক ০৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে দিনাজপুর জেলা। এই জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৪৮৪ জন। ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলা। এই জেলার পাসের হার ৮০ দশমিক ৮৮ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৬২ জন। ৭৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে ৭ম অবস্থানে রয়েছে পঞ্চগড় জেলা। এই জেলায় ২৮৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ৭৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে লালমনিরহাট জেলা। এই জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২৭ জন।

মতামত